ব্রেকিং নিউজ
LIVE
দেশে পৌঁছেছে কারিনার মরদেহ, প্রথম জানাজা সন্ধ্যায়চীন সফরে ডাকসুর ১৫ নেতা, নেতৃত্বে সাদিক কায়েমপ্রাথমিকের নতুন পাঠ্যক্রম চালু কবে, জানালেন প্রতিমন্ত্রীইরান সম্পর্কে ট্রাম্পের বক্তব্য ও গোয়েন্দা তথ্যে বিস্তর ফারাকপুকুরে ভেসে উঠল নিখোঁজ দুই ভাইয়ের লাশগুমের মাধ্যমে দেশের সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করা হয়েছিল : এমপি আরমান২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলবে ব্রাজিল ও স্পেন: নেইমারহাম ও উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যুএবার ড. ইউনূসের শাসনামলের সব ঘটনার তদন্ত চেয়ে রিটপুরোনো পথে হেঁটে নতুন গন্তব্যে পৌঁছানো যায় না: বদিউল আলম মজুমদারভাঙছে ‘অলওয়েদার সড়ক’, দায় চাপাতে ঠেলাঠেলিমুঠোফোন সেবা: ১০০ টাকার মধ্যে ৫৬ টাকাই নেয় সরকারসৌদি আরব ও যুক্তরাজ্যে ৩০০ টন চাল রপ্তানি করেছে শপআপবেতন বাড়ানোর দাবিতে শিক্ষকদের আন্দোলন, ঝুঁকিতে বিশ্বকাপএকটা জেনারেশন নেশার কারণে নষ্ট হয়ে গেছে: জ্বালানিমন্ত্রীদেশে পৌঁছেছে কারিনার মরদেহ, প্রথম জানাজা সন্ধ্যায়চীন সফরে ডাকসুর ১৫ নেতা, নেতৃত্বে সাদিক কায়েমপ্রাথমিকের নতুন পাঠ্যক্রম চালু কবে, জানালেন প্রতিমন্ত্রীইরান সম্পর্কে ট্রাম্পের বক্তব্য ও গোয়েন্দা তথ্যে বিস্তর ফারাকপুকুরে ভেসে উঠল নিখোঁজ দুই ভাইয়ের লাশগুমের মাধ্যমে দেশের সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করা হয়েছিল : এমপি আরমান২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলবে ব্রাজিল ও স্পেন: নেইমারহাম ও উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যুএবার ড. ইউনূসের শাসনামলের সব ঘটনার তদন্ত চেয়ে রিটপুরোনো পথে হেঁটে নতুন গন্তব্যে পৌঁছানো যায় না: বদিউল আলম মজুমদারভাঙছে ‘অলওয়েদার সড়ক’, দায় চাপাতে ঠেলাঠেলিমুঠোফোন সেবা: ১০০ টাকার মধ্যে ৫৬ টাকাই নেয় সরকারসৌদি আরব ও যুক্তরাজ্যে ৩০০ টন চাল রপ্তানি করেছে শপআপবেতন বাড়ানোর দাবিতে শিক্ষকদের আন্দোলন, ঝুঁকিতে বিশ্বকাপএকটা জেনারেশন নেশার কারণে নষ্ট হয়ে গেছে: জ্বালানিমন্ত্রী

ইরান সম্পর্কে ট্রাম্পের বক্তব্য ও গোয়েন্দা তথ্যে বিস্তর ফারাক

admin
Published:
আন্তর্জাতিক
𝕏in 0SHARES
Advertisement
[ Demo Ad Space - 728x90 ]

ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম প্রধান বক্তব্য হলো—যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বোমা হামলায় ইসলামিক রিপাবলিকের সামরিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে।

কিন্তু যেসব গোয়েন্দা প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ্যে আনা হয়নি সেগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইরানের সামরিক শক্তি, বিশেষ করে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে তুলে ধরছে, বাস্তবে ততটা ধ্বংস হয়নি।

এই গোয়েন্দা মূল্যায়নের তথ্য প্রকাশ করাকেই মঙ্গলবার ট্রাম্প ‘ভার্চুয়াল রাষ্ট্রদ্রোহিতা’ বলে আখ্যা দেন।

এপ্রিলের শুরুর দিকে সিএনএন একটি গোয়েন্দা মূল্যায়নের কথা জানায়, যেখানে বলা হয়েছিল ইরান তাদের ড্রোন সক্ষমতার উল্লেখযোগ্য অংশ এবং উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার বড় একটি অংশ অক্ষত রেখেছে।

এই মূল্যায়ন ট্রাম্পের সেই বক্তব্যের বিপরীত ছিল, যা তিনি একই সপ্তাহে জাতির উদ্দেশে ভাষণে দিয়েছিলেন। সেখানে ইরান সম্পর্কে তিনি বলেছিলেন— ‘ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছোড়ার সক্ষমতা নাটকীয়ভাবে কমে গেছে, আর তাদের অস্ত্র কারখানা ও রকেট লঞ্চারগুলো টুকরো টুকরো করে ধ্বংস করা হচ্ছে। খুব কমই অবশিষ্ট আছে। যুদ্ধের ইতিহাসে কখনো কোনো শত্রু এত অল্প সময়ে এত পরিষ্কার ও বিধ্বংসী পরাজয়ের মুখে পড়েনি। আমাদের শত্রুরা হেরে যাচ্ছে।’

সিএনএনের এই মাসের প্রতিবেদন অনুসারে, ইরান মধ্যবর্তী ছয় সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিকে কাজে লাগিয়ে পূর্ববর্তী হামলায় মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকতে পারে এমন লঞ্চারগুলো খুঁড়ে বের করেছে।

এতে বোঝা যায়, কেন ইরান এত কার্যকরভাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিতে পেরেছে এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে চাপ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে।

এই পুরো সময়ে ট্রাম্প ‘ইরানকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দিয়েছেন’— এমন শব্দ ব্যবহার করে ইরানের সক্ষমতা বর্ণনা করেছেন এবং দাবি করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র চাইলে আগামীকালই যুদ্ধ শেষ করে দিতে পারে।

সিএনএনের প্রতিবেদনে উদ্ধৃত গোয়েন্দা তথ্য আরও বলছে, বর্তমান মার্কিন অবরোধের মধ্যেও অর্থনীতি পুরোপুরি অস্থিতিশীল না করেই ইরান তার বন্দরগুলো চার মাস পর্যন্ত চালিয়ে যেতে পারবে— এমনটাই বলেছেন ওই তথ্য সম্পর্কে অবগত সূত্রগুলো।

এই সপ্তাহে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস জানায়, মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী হরমুজ প্রণালির পাশে ইরানের ৩৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির মধ্যে মাত্র তিনটি বাদে বাকিগুলো এখনো ‘কার্যকর’ রয়েছে।

‘ভার্চুয়াল রাষ্ট্রদ্রোহিতা’

ট্রাম্প যদিও সরাসরি টাইমস-এর প্রতিবেদনের নাম উল্লেখ করেননি, তবে এটি প্রকাশিত হওয়ার পর সামাজিক মাধ্যমে তিনি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, ‘‘যখন ভুয়া সংবাদমাধ্যম বলে যে ইরানি শত্রুরা সামরিকভাবে আমাদের বিরুদ্ধে ভালো করছে, তখন সেটা কার্যত রাষ্ট্রদ্রোহিতা। এটা এতটাই মিথ্যা, এমনকি হাস্যকর। তারা শত্রুকে সহায়তা করছে! এর ফলে শুধু ইরান মিথ্যা আশা পায়, যদিও তাদের কোনো আশা থাকা উচিত নয়। এরা আমেরিকান কাপুরুষ, যারা নিজেদের দেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে। ইরানের নৌবাহিনীতে ১৫৯টি জাহাজ ছিল, সেগুলো এখন সমুদ্রের তলায়। তাদের কোনো নৌবাহিনী নেই, বিমানবাহিনী শেষ, সব প্রযুক্তি ধ্বংস, তাদের ‘নেতারা’ আর নেই, আর দেশটি অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে আছে। কেবল পরাজিত, অকৃতজ্ঞ ও বোকা লোকেরাই আমেরিকার বিরুদ্ধে যুক্তি দাঁড় করাতে পারে!’’

তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ওই পোস্টে তিনি কোথাও বলেননি যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলো আর কার্যকর নেই এবং সেখানে তাদের আর প্রবেশাধিকার নেই।

তথ্যগুলো গোপনীয়

মঙ্গলবার সিনেট শুনানিতে জয়েন্ট চিফ অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনকে সরাসরি জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল; টাইমস-এর প্রতিবেদন কি ট্রাম্পের আগের সেই দাবির বিরোধিতা করে, যেখানে তিনি বলেছিলেন ইরানের ৮০% ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস হয়ে গেছে?

এই প্রশ্নে দেশটির শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা বিষয়টি নিয়ে উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানান।

কেইন বলেন, ‘যুদ্ধ সম্পর্কিত সব তথ্যই গোপনীয়, তাই এই ফোরামে এ বিষয়ে মন্তব্য করা অনুচিত হবে। প্রশ্নটির জন্য ধন্যবাদ, কিন্তু আমি উত্তর দেব না।’

প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও একই ধরনের মন্তব্য করেন। হেগসেথ বলেন, ‘মানুষ কী ফাঁস করছে বা করছে না, সেটা আমি কেন বৈধতা দেব? আমরা এসব নিয়ে কথা বলি না।’

তবে এপ্রিল মাসে পেন্টাগনে হেগসেথ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে আরও জোরালো দাবি করেছিলেন। হেগসেথ বলেন, ‘তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে। লঞ্চার, উৎপাদন কেন্দ্র এবং মজুতভান্ডার নিঃশেষ ও চূর্ণবিচূর্ণ হয়েছে এবং প্রায় সম্পূর্ণ অকার্যকর।’

প্রশাসন কি গোপনে ভিন্ন কথা বলছে?

এই সপ্তাহে ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস মারফি ইঙ্গিত দেন যে, প্রশাসন গোপন বৈঠকে ইরানের সক্ষমতা সম্পর্কে এক কথা বলছে, আর প্রকাশ্যে আরেক কথা।

মঙ্গলবারের শুনানিতে মারফি হেগসেথকে জিজ্ঞাসা করেন—হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার মতো কার্যকর সামরিক উপায় আসলে যুক্তরাষ্ট্রের আছে কি না। এর উত্তরে হেগসেথ বলেন, ‘হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার জন্য অবশ্যই সামরিক উপায় রয়েছে। এটি হতে পারে স্থলভাগে হামলা, আমাদের নৌ সক্ষমতা, এমনকি নৌ অবরোধের মাধ্যমেও।’

এর জবাবে মারফি বলেন, ‘ব্যক্তিগত ব্রিফিংয়ে আমাদের যা বলা হয়েছে, এটা তার সঙ্গে মেলে না।’ তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, যদি সামরিক বিকল্প থাকে, তবে প্রশাসন তা ব্যবহার করছে না কেন?

হেগসেথ বলেন, আমরা দীর্ঘমেয়াদি এমন একটি সমঝোতাই অগ্রাধিকার দিচ্ছি, যাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বাণিজ্য নির্বিঘ্নে প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে পারে এবং এটি বাস্তবসম্মত বলেই মনে হয়।

যুদ্ধপূর্ব কিছু গোয়েন্দা তথ্য সঠিক ছিল

তবে এখানে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, প্রণালিটি এখন বন্ধ থাকার একমাত্র কারণ হলো— বোমা হামলার জবাবে ইরান তাদের হাতে থাকা চাপ সৃষ্টির ক্ষমতা ব্যবহার করেছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বিস্ময়কর হওয়ার কথা ছিল না, কারণ সামরিক যুদ্ধপরিকল্পনায় এটি আগে থেকেই সম্ভাব্য দৃশ্যপট হিসেবে বিবেচিত ছিল।

একইভাবে, যুদ্ধের শুরুতেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা করলে যে সরকার পতন হবে না, সেটাও মার্কিন ভাবনায় ছিল না। যুদ্ধ শুরুর আগে জানুয়ারিতে সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ট্রাম্পকে দেওয়া মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নেও এমন ধারণা ছিল যে খামেনিকে হত্যা করলেই সব শেষ হয়ে যাবে।

অবসরপ্রাপ্ত অ্যাডমিরাল জেমস স্ট্যাভরিডিস গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাজের প্রশংসা করেন, যদিও তাদের তথ্য রাজনৈতিকভাবে অস্বস্তিকর হতে পারে। স্ট্যাভরিডিস সিএনএনে বলেন, ‘যদি এই প্রতিবেদনগুলো সঠিক হয়, তাহলে আপনি আপনার গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছ থেকে ঠিক এটিই প্রত্যাশা করবেন।’

বিকৃত তথ্য উপস্থাপনের বৃহত্তর ধারা

ট্রাম্প প্রশাসন তাদের রাজনৈতিক এজেন্ডা এগিয়ে নিতে প্রায়ই অতিরঞ্জন বা বাড়িয়ে বলা তথ্য ব্যবহার করেছে। যেমন— এই গণ নির্বাসন অভিযানে শুধু দাগী অপরাধীদেরই আটক করা হচ্ছে না; ব্যয় হ্রাসের মাধ্যমে শুধু জালিয়াতিকেই লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে না; মার্কিন নির্বাচনে অনাগরিকদের দ্বারা সংঘটিত ব্যাপক জালিয়াতির কোনো প্রমাণ নেই।

ইরান যুদ্ধ নিয়ে হোয়াইট হাউসের কিছু যুক্তি উপরোক্ত এসব ধারার সঙ্গেই মিলে যাচ্ছে বলে মনে হয়।

Advertisement
[ Demo Ad Space - 728x90 ]

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান